জামালপুর জেলা প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার ৩নং লক্ষীরচর ইউনিয়নের
ভূয়া তান্ত্রিকের অবশিষ্টাংক সংবাদের ২য় পর্ব।
এমন বেকার লোকজন এসকল অন্যায় অপকর্ম প্রতারণার সাথে টাকার লোভে ভূয়া তান্ত্রিকতা ও কবিরাজির সাথে নিজেদের জড়িয়েছে। যাদের দৈনদৈনিক জীবনে নুন আনতে পান্ত ফুরিয়ে যেতো এখন অল্প সময়ে ডিজিটাল প্লাটফর্ম টিকটক মাদক ব্যবসা করে অনেকেই কোড়ে ঘর থেকে বিলাশবহুল বাড়ি ও গাড়ির মালিক বনে গেছেন।
এই অপকর্মগুলো সাথে সম্পৃক্ত ভূয়া কিছু তান্ত্রিক-কবিরাজের নাম হলো, জামালপুর সদর উপজেলার ৩নং লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর উজানপাড়া গ্রামের ডিজিটাল প্লাটফর্ম টিকটক ও তান্ত্রিক গুরু মোঃ রাজু সরকার, পিতা মৃতঃ কুদ্দুস সরকার, আব্দুল জলিল’র ছেলে মোঃ ইসলাম দুইজন ব্যক্তি তান্ত্রিক গুরু।
সরেজমিনে পাওয়া চেলাগুলোর নাম মোঃ বাবুল মিয়ার ছেলে মোঃ মামুন মিয়া, মোঃ কুকিল মিয়ার ছেলে মোঃ হাফিজুল ইসলাম, মোঃ আরবুলা মুন্সী’র ছেলে মোঃ কলি, মোতালেব’র ছেলে মোঃ উকিল মিয়া, মোঃ বুরুজ উদ্দিন’র ছেলে মোঃ মিস্টার আলী, মোঃ হাসমত আলী’র ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া, জিয়াউল কবিরাজের ছেলে মোঃ জনি ও মোঃ জয় দুই ভাই। তান্ত্রিক গুরু গাফফারের টিকটক আইডিটি হলো রাজু সরকারের। অপর দিকে আদো কবিরাজের টিকটক আইডিটি মোঃ মিস্টারের। এইভাবেই নিজ নাম গোপন করে ছদ্ম নাম ব্যবহার করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তান্ত্রিক ভন্ডরা ।
অপর দিকে চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া বাজার এলাকায় ডিজিটাল প্লাটফর্ম টিকটক ও তান্ত্রিক গুরু মোঃ বকুল মিয়া, পিতা মোঃ মহম মিয়া, মোঃ বকুল মিয়ার ছেলে আরমান হোসেন, জাবেদ আলীর ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইউসুফ আলীর ছেলে ইমরান আলী, মোঃ সমেশ আলীর ছেলে মোঃ পারভেজ আলী, মোঃ আলম মিয়ার ছেলে মোঃ কাজল। এরা তান্ত্রিকের পাশাপাশি বিভিন্ন মাদক কারবারীর সাথেও জড়িত রয়েছে বলে সরেজমিনে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুরুষ ও মহিলাকে জিজ্ঞাবাদ করলে তারা সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বলেন এই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে মোবাইল তান্ত্রিক রয়েছে যার ফলে স্কুল কলেজের পড়–য়া শিক্ষার্থীরা কাঁচা টাকার গরমে বিভিন্ন নেশার জগতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। ফের নামের কথা জিজ্ঞাসা করলে মহিলা বলেন আমাদের জীবন মরণের ভয় রয়েছে আপনারা নিজেরাই খুঁজে বের করেন গা। তবে আমরা ভূয়া তান্ত্রিক ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্ত বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোড় দাবী জানাই।
অপর দিকে ভূয়া তান্ত্রিক মিস্টার আলীর বাড়ীতে গেলে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের দেখে সরে পড়ে। মিস্টার আলীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাকালে তিনি তার নাম বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। মিস্টাররে স্ত্রী বলেন আমার বাবা কবিরাজ ছিলেন, আমার বাবার নাম আলমাছ কবিরাজ। মিস্টারের স্ত্রী এইয়ো বলেন আমার পিতা, শ্বশুর এবং শাশুড়ী সকলেই কবিরাজি চিকিৎসা করে মানুষের সেবা দেন। কিন্তু আমার স্বামী তান্ত্রিক’র সাথে জড়িত নয়। পরে মিস্টারের ভিডিও দেখালে আশপাশের লোকজনসহ মিস্টার স্ত্রী হতস্তম্ভ হয়। এই ভুয়া তান্ত্রিক বিষয়ে মিস্টারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ভূয়া তান্ত্রিক’র বিষয়ে স্বীকার করেন এবং এলাকার সকল ভূয়া তান্ত্রিক ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওয়তায় নিয়ে আসার জন্য দাবী করেন। যদি এগুলো বন্ধ না হয় তাহলে মিস্টারে তান্ত্রিক ব্যবসা বন্ধ হবে না বলে হুশিয়ারি দেন ভূয়া তান্ত্রিক মিস্টার।
মিস্টারের কাছে তান্ত্রিকের বিষয় বা নাম জানতে চাইলে প্রথমে সে বলে আমি নিজেই তান্ত্রিক আইডি খুলেছি। পরে একপর্যায়ে চরচথার্থপুর এলাকার তান্ত্রিকের নাম বলা শুরু করলে মিস্টার বলে এটিতো চান্দাপাড়া বাজার এলাকায়। আমাদের যথার্থপুর উজানপাড়া এলাকার নাম বলেন, সরেজমিনে ঘুরে পাওয়া তান্ত্রিক’র একের পর এক নাম বললে মিস্টার বলে সব ঠিক আছে। আসল গুরুতো রাজু, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারবেন তো। তার জবাবে সাংবাদিকগন বলেন অপকর্ম বন্ধ করার দায়িত্ব প্রশাসনের, আমাদের দায়িত্ব প্রশাসনকে জানানো।
এমন তথ্য উদঘাটনের জন্য ওই এলাকালায় একাদিকবার প্রবেশ করলে ভূয়া তান্ত্রিক রাজু সরকার রেজিস্টার বিহীন তার আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল দিয়ে স্কুল পড়–য়া ছাত্রদের গণমাধ্যমকর্মীদের পিছনে লেলিয়ে দেয়।
এক পর্যায়ে ভূয়া তান্ত্রিক গুরু ও মাদক কারবারী রাজু সরকার “চ্যালেন আর জামালপুর প্রতিনিধি, দৈনিক আলোচিত জামালপুর পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা ফাউন্ডেশন (আসফ) এর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আ.ন.ম. লুৎফুর রহমানকে দিবালোকের সম্মুখে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন।
তাই ব্যাঙের ছত্রাকের মতো গড়ে উঠা ভূয়া তান্ত্রিক ও মাদক অপকর্মের বিষয়বস্তু একেক জনের নামের ঘটনা পৃথক পৃথকভাবে যা পরবর্তীতে পাঠকের জ্ঞাতার্থে জানানো হবে। সেই সাথে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি বিচার কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।