আ.ন.ম. লুৎফুর রহমান (জামালপুর): সম্প্রতি ভূয়া তান্ত্রিকদের সংবাদ সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন হলেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এখানো নড়বড়ে কেন? জানতে চায় 'চ্যালেন আর' এর সর্বোচ্চ পাঠক ও মতামত কারীগণ।
ভূয়া তান্ত্রিক জহিরুল যার জন্ম নিবন্ধন নং-২০০০৩৯১৩৬৪১০৭৪৭৯৫ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন স্লিপ নং- ১৫৫৫১১৮৪০ মোঃ জহুরুল ইসলাম’ নামে লিপিবদ্ধ, পিতা মোঃ ইউসুফ মোল্লা, তার ছেলে চট্টগ্রামের অভিযুক্ত মহিলার কাছ থেকে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি ২০২৫ খ্রিঃ মাসের অদ্যবতি পর্যন্ত ৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তান্ত্রিক কবিরাজ জহুরুল ইসলাম। জহুরুল ইসলাম ওরফে তান্ত্রিক গুরু হাতেম কবিরাজ’র যে সকল বিকাশ ও নগদ নাম্বারে টাকা নিয়েছিল নাম্বারগুলো তোলে ধরা হলো: - ০১৩৩৭৬৭৪৮৮২, ০১৩৩৭৬০৮৬৮৭, ০১৭৬৫৮৯৩১৭৫, ০১৮৬১৮০৬৮৭৫, ০১৩০০১০০৩২১ নাম্বারে টাকা আনতো মোঃ জহুরুল ইসলাম। এতেই ক্ষান্ত হয়নি জহুরুল ইসলাম, সে আরো ২ লাখ টাকা দাবী করেন, চট্টগ্রামের ভোক্তভোগীর কাছে।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কবিরাজ ৩ দিনের মধ্যে জ্বীন চিকিৎসা করে সম্পন্নভাবে রোগ নিরাময় করবে বলে প্রথমে আমার কাছ থেকে আসন খরচসহ বিভিন্ন তান্ত্রিক সরঞ্জামি ক্রয় করার জন্য ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা বিকাশের মাধ্যমে চাইলে রোগ থেকে মুক্তির জন্য আমি বিকাশে টাকা পাঠাই। তান্ত্রিক মোঃ জহুরুল ইসলাম টাকা পেয়ে আমাকে ইমুতে ফোন দেয় ও আমাকে কিছু নিময়কাকুন বলে দেয়। আমি সেই নিয়ম কারন মেনে চলার পরও সে আমাকে বলে তুমি ২ (দুই) টি নিয়ম ভঙ্গ করেছ। আমার জ্বীন তোমার প্রতি খুব রাগ করেছে। জ্বীন তোমার এবং তোমার সন্তানদের পঙ্গু করে দিবে ও অনেক বড় ধরণের ক্ষতি করবে। জ্বীনের রাগ ভাঙ্গানোর তোমাকে এক ডজন দেশি হাঁস, দেশি কবুতর, দেশি খাসি ও একটা ষাড় মহিষ দিতে হবে। তানাহলে জ্বীন তোমার ক্ষতি করলে আমাকে দোষ দিতে পারবে না। এইভাবে ভয় দেখিয়ে মোঃ জহুরুল ইসলাম আমার কাছ থেকে দফায় দফায় ৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। একপর্যায়ে আমি তাদের কথামতো ধার করে স্বর্ণলঙ্কার বিক্রি করে রেহাই পাওয়ার জন্য ভূয়া তান্ত্রিক জহুরুলকে বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাই। বিকাশ নাম্বারগুলো হলোঃ ০১৩৩৭৬৭৪৮৮২, ০১৩৩৭৬০৮৬৮৭, ০১৭৬৫৮৯৩১৭৫, ০১৮৬১৮০৬৮৭৫, ০১৩০০১০০৩২১, নাম্বারগুলো তে বিভিন্ন সময়ে ৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা পাঠাই। পরবর্তীতে জহুরুল কবিরাজ আরো ২ লক্ষ টাকা আমার কাছে দাবী করলে আমি মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বহুল আলোচিত জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম “চ্যালেন আর” এর মাধ্যমে জামালপুর সদর উপজেলার ৩নং লক্ষীরচর ইউনিয়নের ভূয়া তান্ত্রিকের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ও পাঠকের মতামতের মাধ্যমে জানতে পারি এ সবই ভূয়া তান্ত্রিক।অতএব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, উপরোক্ত ভূয়া তান্ত্রিকের বিষয়ে সু-বিবেচনা করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা দানে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি, মর্মে অভিযোগকারী অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ অভিযোগ করেও কোন ফল পায়নি ভোক্তভোগি অভিযোগকারী। এতে করে দেশের সাধারণ মানুষসহ গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টিতে পুলিশের পদক্ষেপ নড়বড়ে বলে প্রশ্ন উঠে। প্রশাসন যখন প্রহসনের কাতারে লিপ্ত হয় দেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতি নিঃসন্দেহে ঘাটতি রয়েছে বলা যায়। আর কমেন্ট কারীর সাহসীকতায় আজ তার বাস্তাব প্রমাণ। যে প্রমাণে উল্লেখ রয়েছে জামালপুর ও শেরপুর জেলা প্রশাসন তাদের টাকায় চলে।
অর্থ্যাৎ মতামতকারী বুঝিয়েছেন তান্ত্রিকের টাকায় প্রশাসন নড়বড়ে বনে গেছেন। এই নিড়বিচ্ছিন্ন জ্বালা বাংলার সাধারণ মানুষ কেমন করে সহ্য কবরে। প্রশাসনের নড়বড়ে আইনপ্রয়োগ দেখে আত্মত্যাগ করা হলেও, তাও মহিমাময় মহানের নিকট মাপের নয়। তাই মহিমাময় মহানের কাছে প্রার্থনা, হে মাবুদ তুমি অনন্ত পুলিশ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে শুভ বুদ্ধির উদয় করাও। মায়ের সেবা, না করতে পারলেও অন্যের ক্ষতি যে পূর্ণনীয় নয় সে বিবেক জাগ্রত্য করাও। আবার যেন বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি ও ঘুষখোরদের বিতাড়িত করে একটি সুষ্ঠু দেশ বির্নিমানে বাংলার মানুষ ভালবাসার কম্বলমোড়ে একটু উষ্ণতার সাথে বাংলার আকাশ-বাতাস নদী-নালায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এই প্রত্যাশায় চায় জনজীবন বান্ধব। সেই সাথে কঠিন আইন প্রয়োগ করে দেশের মাটি থেকে ভূয়া তান্ত্রিকদের বিতাড়িত করে প্রশাসন যেন তাদের সুনাম ফিরিয়ে আনে এটাই দেখতে চায় মতামতকারী ও পাঠকগণ।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ফয়সাল মোঃ আতিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন লক্ষ্মীচর ইউনিয়নের চান্দাপাড়া, উজানপাড়া, চর যথার্থপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে ভুয়া তান্ত্রিক জহিরুল সহ তান্তিকরা বাড়িতে নেই, অচিরেই ভুয়া তান্তিকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।