জামালপুর জেলা প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ও মেস্টা ইউনিয়নের অপরিকল্পিত বাঁধে বছরের পর বছর অনাবাদি থাকছে ৩ হাজার একর জমি। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজমান। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য সোমবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে ভুক্তভোগীরা এলাকার জালিয়ারপাড় মোড়ে মানববন্ধন করেন।
জামালপুর উপজেলার তিতপল্লাা ইউনিয়নের দিঘা বিলের সব পানি মেস্টা ইউনিয়নের জালিয়ারপাড়,সাপলেঞ্জা ও সরিষাবাড়ি উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের জয়নগর বালুকা ব্রিজ দিয়ে আখড়া বিলে নেমে যেত। বিগত কয়েক বছর ধরে ওই ইউনিয়'র প্রায় ৩ হাজার একর জমি বিভিন্ন বাঁধ নির্মান করে মাছ চাষসহ নানান কারণে তা অনাবাদি রয়েছে।
মানববন্ধনে কৃষক মাসুদুর রহমান জানান, এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে কিছু ব্যক্তি লাভবান হতে মাছের খামার, জালিয়ারপাড় এলাকায় খাল ভরাটসহ বাঁধ নির্মান'র কারণে বিলে এলাকার পানি বের হতে না পারায় ৩ হাজার একর জমি অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। বিগত বছর গুলোতে ফসলি জমি অনাবাদি থাকায় প্রতিকার চেয়ে দীর্ঘ ১২ বছর থেকে প্রশাসনের কাছে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় এমপিরা আশ্বাস দিলেও এর কোন সোরাহ হয়নি। সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলার জালিয়ারপাড় মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী শতাধিক মানুষ মানববন্ধন করে। এ সময় অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানকারীদের নিষ্কাশন দাবি করেন মানববন্ধনকারীরা। মানববন্ধনে এলাকার মাহবু্ুবুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সোহাগ, মেস্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যা আক্তারুজ্জমান মাসুদ, ইউপি সদস্য রিপন মাহমুদ মিন্টু, হাফিজুর রহমান ও জালাল প্রমুখ।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বিলে অপরিকল্পিতভাবে মাছের খামার ও বাঁধ নির্মান করার কারণে ৩ হাজার একর জমি পানির নিচে থাকে। এতে করে উপজেলার বালুয়াটা, ডেফুলীবাড়ি, বুখুঞ্জা, দেউলিয়াবাড়ি, জালিয়ারপাড়, সাপলেঞ্জা ও কলতাপাড়াসহ ১২ টি গ্রামের কৃষকের ৩ হাজার একর জমি সামান্য বৃষ্টিতে পানির নিচে ডুবে থাক। তারা জালিয়ারপাড় খাল ভরাটের কারণে এসব জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার পরেও এর কোন কাজ হচ্ছেনা বলে জানান এলাকাবাসি। তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন পানি নিষ্কাশনে খাল খননের পদক্ষেপ নিলেও পরে থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের চলতি মাসে পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. এমদাদুল হক জানান, বিষয়টির তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।