কুতুবউদ্দিন আহমেদ (কিশোরগঞ্জ):"বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “এ দেশে যা কিছু ভালো, সবকিছু দিয়েছে বিএনপি। নানা নির্যাতন-নিপীড়ন করেও দলটিকে কেউ বিলীন করতে পারেনি। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো—যে দল ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পালিয়ে গেছে। বিএনপি সেই দল, যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি।”
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুরোনো স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ৯ বছর পর আয়োজিত জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে এবং বিএনপিকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। যাদের ‘কাল জন্ম’ হয়েছে বা যারা একাত্তরে ভিন্ন অবস্থানে ছিলেন, তারাও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করছে। অথচ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার যে অবকাশ তৈরি হয়েছে—তা বিএনপি কাজে লাগাতে প্রস্তুত।
মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার আগে শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে এটা জানা দরকার। শহীদ জিয়ার লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই তিনি বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বিএনপি আজ মুক্ত পরিবেশে কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও যারা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়েছে—সেই ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানাই।”
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম। বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ, কোষাধ্যক্ষ এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী ও আবু ওয়াহাব আকন্দ।এছাড়াও জেলানেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন ।
এর আগে জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে সমবেত হন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সম্মেলন প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।