আ.ন.ম.লুৎফুর রহমান:সম্প্রতি প্রতি বছরই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন থেকেই রাক্ষসী যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, দশানী ও বড়িয়ালমারী নদের কড়াল গ্রাসের শিকার। নদী ভাঙন শতাধিক মানুষের নিঃম্ব হওয়ার গল্প যেন জনম-জনমের। সেই সাথে দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে পুরো দেওয়ানগঞ্জবাসীকে। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবী। নয়তো পুরো দেওয়ানগঞ্জ নদীনগর্ভে বিলিন হবে এটাই স্থানীয়দের ধারনা।
কবিতা
যমুনার চরের চাষী
সখিঃ এই চরেতে ছিল নাতো কোন বাড়ি ঘর
বলতো লোকে এইট্যা ছিল ধূ-ধূ বালির চর
যমুনা পাড়ের বালির চরে ধূলোয় অন্ধকার,
দিন-দুপুরেও সেথায় যাবার সাহস ছিল কার?
চারিদিকে উপচেপড়া গভীর নদীর ঢেউ,
এই চরেতে ঘর বাঁধিবার সাহস পাইনি কেউ।
বলল চাষী বাপের ভিটা বিলীন করলো নদী,
আশায় ছিলাম অনেক বছর চর জাগিত যদি।
জমি এখন চর পড়েছে আমার বাবার ভূমি,
কোন গায়ের কইন্যা তুমি জানি নাতো আমি।
পিয়াচ, আলু, বেগুন-ভূট্টা, বাদাম, আউশে-কাউনে ভরা,
ফসল কইর্যা কোনো চাষী কেউ খায় নাই ধরা।
নদীর ঘাটে নৌকা চইড়্যা বাজারে দেয় পাড়ি
সন্ধ্যা বেলা সওদ্যা লইয়া ফিরে আসে বাড়ি।
ছেলে মেয়ে ওপারে যায় স্কুল কলেজে পড়তে,
রাত্রি বেলা জোনাকী বাতির বাহার লাগে জ্বলতে।
সখিঃ পরিশ্রম কইর্যা চাষী আর বাইধোনা ঘর,
গাঙ্গে আইলে নয়া পানি করবে তাতে ভর।
চাষীঃ ঝড়-প্লাবনে টিকে আছি না ছাড়িলাম ঘর,
সেই না ফসল উঠই সেসব ভরি খামার ঘর,
সেই ফসলে জীবন ধারন চলছে জনম ভর।
নৌকা নিয়া বণিক আসে এই সব ফসল কিনতে
চাষী তখন বেচে সেসব মনের আনন্দেতে।
গ্রাম বাংলার বাহারী শোভা দেখতে যদি চাও,
কাঁশবনে ওই কাঁশফুলে দোল তোমরা দেখে যাও
তুমি যে অবলা নারী মোর ভেদ জানলে না।
চাষী মাঠে কাজ না করলে মলিন হবে মাঠখানা।
মনে যদি চায়গো তোমার আইসো আমার ঘরে
গড়বো দু’জন কৃষি খামার অনেক যতন করে।
যমুনার চরের চাষীগুলো বরই হতো ভাগা
বছরে-বছরে ভিটে ভাংগে এই তো কপাল পোড়া।
কপাল পোড়লে কি আর হবে
পারিনাতো বাপের ভিটে ছাড়তে
জানিনাতো কত জনম পুহাবো যমুনার বুকে।
এই কবিতায় যেন আজ দেওয়ানবাসীর মুখোমুখি। সোমবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসী ভাঙন রোধে সরকার'র দৃষ্টি আকর্ষন'র জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে এক মানববন্ধন করেছে দেওয়ানগঞ্জবাসী।
মানববন্ধনে অংমগ্রহণকারী আ.ন.ম. মুসা আলম, মাহমুদুননবী উজ্জ্বল, আহম্মদ আলী আকালু, সাইফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ফরিদা আক্তার, আলেকা বেগম সহ অন্যান্যরা বলেন, নদ-নদী ভাঙনের ফলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে। এই মুহুর্তে ভাঙন রোধ করতে না পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সড়ক, কালভার্ট, ব্রীজ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। যা দেওয়ানগঞ্জবাসীর জীবনযাত্রার হুমকি স্বরুপ।