কুতুব উদ্দিন আহমেদ, করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সংযোগ সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আলা উদ্দিনের বাড়ি থেকে বিদ্যালয় হয়ে মৌলভী বাড়ি থেকে বানকাটা মোড় পর্যন্ত এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
রাস্তার দু’পাশে গভীর পুকুর থাকায় পাড় ভেঙে কোথাও কোথাও রাস্তার প্রস্থ দুই ফুটেরও কমে নেমে এসেছে। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গ্রামবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
একসময় গাড়ি চলাচলযোগ্য সড়কটি এখন প্রায় মৃতপ্রায়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, এবং অভিভাবকরা দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয়রা একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কয়েক বছর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মাটি ভরাট করা হলেও ভাঙনের কারণে রাস্তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
রাস্তাটির করুণ অবস্থার প্রতিবাদে ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল ১০ঘটিকায় সিন্দ্রীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় এলাকাবাসী ও ছাত্র-অভিভাবকদের উদ্যোগে কুতুব উদ্দিন আহমেদ এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আমিনুল ইসলাম খান পারভেজ এর সঞ্চালনায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—
৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য মো. এনামুল হক বাচ্চু, সাবেক ইউপি সদস্য মিলন মিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক জাকির হোসেন রবিন, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক সানাউল্লাহ আহসান, সমাজসেবক মিলন মিয়া, আলা উদ্দিন, শাহ আলম,ছাত্র অভিভাবক মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নৌশাদ আলম (পঞ্চম শ্রেণি) ও জারিফ আহমেদ আদনান (দ্বিতীয় শ্রেণি), এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
স্থানীয়দের মতে, সিন্দ্রীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার এই রাস্তার বর্তমান অবস্থা এখন মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
এটি শুধু একটি রাস্তা নয়—এটি শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপদ শিক্ষাগমন পথ।
এছাড়াও পার্শ্ববর্তী সিন্দ্রীপ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও ভোগান্তির সীমা নেই।
এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন “এই রাস্তার সংস্কার না হলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।”
মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়—
১️সিন্দ্রীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার সংযোগ সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করা।
২️। রাস্তার দু’পাশে স্থায়ী পাকা বাঁধ নির্মাণ করে পুকুরপাড় ভাঙন রোধ করা।
৩️। রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধি ও টেকসই পাকা সংস্কার করা।
৪️। বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর অগ্রাধিকার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা।
এলাকাবাসীর দাবি, “মাননীয় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই মরণফাঁদে পরিণত রাস্তাটিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাপথে রূপান্তরিত করতে।”
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সিন্দ্রীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কটি অতি দ্রুত সংস্কারের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।