চীফ রিপোর্টার আ.ন.ম লুৎফুর রহমান: ময়মনসিংহ রেঞ্জের অধিনস্থ জামালপুরের বকশীগঞ্জ লাউচাপড়া ডুমুরতলা এলাকায় পাহাড়ের মাটি ও বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। চক্রটি ডুমুরতলা এলাকায় বনের শতশত গাছ কেটে কালোবাজারি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকার বেশ কিছু লোকজন জানান, সেই চক্রের মূলহুতা হচ্ছে বালিজুড়ি ডুমুরতলা রেঞ্জের ফরেস্ট বিট অফিসের বন প্রহরী শামীম হোসেন ও শামীমের সহযোগী স্থানীয় এলাকার কিছু অসাধু গাছ চোরাকারবারী ব্যক্তিগণ।
তারা আরও জানান, লাউচাপড়া বাজারের পূর্ব এলাকা কর্ণজোড়া রোডের পাশে বন্দের কোনা মোঃ মাহা নামে এক ব্যক্তি বন বিভাগের পাহাড়ি জমিতে বাড়ী করে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি তিনি হঠাৎ করেই তার বাড়ির উচুটিলা কেটে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। মাটি বিক্রির টাকার ভখরা বন প্রহরী শামীম ও বন কর্মকর্তাদের পকেটে উঠেছে। বন বিভাগের বিট অফিসের বড় গোছা বাঁশবাগান সংলগ্ন বন থেকে চোরাকারবারীরা রাতের আঁধারে বন থেকে শতশত গাছ কেটে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়।
অপরদিকে ডুমুরতলা ফরেস্ট বিট অফিসের আওতাধিন বেশ কিছু ছোটবড় পাহাড়ে বন বিভাগের অনুমোতি ছাড়া প্রায় ৬৫টি নতুন ছোট বড় ভিটি পাকা করে টিনের চৌচালা ঘর উঠিয়েছে কিছু ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ঘরের মালিক বলেন, বন বিভাগের লোকজন আমাদের কাছ থেকে প্রতিটি ঘরের জন্য ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। এর কোন কাগজপত্র আমাদের দেওয়া হয়নি। এসকল অনিয়ম কর্মকান্ডের মূলহুতা হলেন বন প্রহরী শামীম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। এ ভাবেই ডুমুরতলা ফরেস্ট বিট অফিসের শামীমসহ কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
বন প্রহরী শামীম বলেন, আমি মাত্র ২ বছর আগে ডুমুরতলা বিট অফিসে যোগদান করেছি। অনেকেই ২০-২৫ বছর আগে থেকেই এখানে বন প্রহরীর কাজে রয়েছেন। আমি যোগদানের পর বন কর্মকর্তাদের নিয়ে বেশ কয়েকবার গাছ চোরাকারবারীদের আটক করেছি। এই কারণে হয়তো তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার সুনাম নষ্ট করতে উঠে পরে লেগেছে। গাছ কাটা চোরাকারবারী বা পাহাড়ে ঘর উঠানোর টাকা নেয়ার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে ডুমুরতলা বালিজুড়ি রেঞ্জের ফরেস্ট বিট অফিসের কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, বনের গাছ কাটা বা পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সেই সাথে অনুমতি ব্যক্তিদের পাহাড়ে ঘর বা বসতি স্থাপন করাও বেআইনি। এই ঘটনা খবরের আগে আমার কাছে কেউ বলেনি। আমি নিজে এই বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবো। যদি কেউ এমন ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শামীম নামে আমাদের এক বন প্রহরী রয়েছে তার কাছ থেকেও এই বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নেবো।
ইতিমধ্যে বনে গাছ কেটে বনউজাড় করার কথা উল্লেখ করে বন প্রহরী শামীম আহম্মেদের নামে স্থানীয় এলাকার লোকজন ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বরাবর ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর আইগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বন উজাড়কারী ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে যথাযথ শাক্তির ব্যবস্থা করা হলে রক্ষা পাবে বনের গাছ, পাহাড়ের মাটি।
সেই সাথে চোরাকারবারীদের দৌরাত্ববন্ধ হবে এবং এই গাছ চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বনে সুবিধাভোগী বাসিন্দাগণ।