মোঃ রবিউল আওয়াল: গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হলে জনগণের দৃষ্টি মুহূর্তেই সেখানে কেন্দ্রীভূত হয়। একজন নেতা, জনপ্রতিনিধি বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু–বাঁচা সম্পর্কিত তথ্য শুধু পরিবার নয়, পুরো দেশের জন্যই সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই কারণেই গণমাধ্যম কর্মীরা দ্রুততম সময়ে সত্যটি জানতে আগ্রহী হন—এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকরা সব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য–তথ্যে প্রবেশাধিকার প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ চিকিৎসা–সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে “Patient Confidentiality” আইনের কঠোর সুরক্ষায় থাকে। এটি ভাঙা হাসপাতালের নীতি ও রোগীর মানবাধিকার উভয়েরই লঙ্ঘন।
তবে সমস্যা হলো, তথ্য গোপন রাখলে গুজব, বিভ্রান্তি ও ভুয়া খবর যেকোনো সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে—যার প্রভাব জাতীয় পর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার মতোও হতে পারে। আবার ভুল ব্যাখ্যা করা মেডিক্যাল তথ্য প্রকাশ করলে আতঙ্ক বা ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি থাকে। তাই হাসপাতাল শুধুমাত্র মেডিক্যাল বোর্ড বা অনুমোদিত মুখপাত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করে থাকে।
এ অবস্থায় সাংবাদিকদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে; আর জনগণও নিশ্চিত তথ্য না পেয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে। ফলে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এমন এক নীতিমালার, যেখানে সত্য, স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা—তিনটি বিষয়ই সমন্বিত থাকবে।
প্রস্তাব: VIP Health Transparency Protocol
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসা–সংক্রান্ত আপডেট জনগণের কাছে পৌঁছাতে সরকার চাইলে একটি বিশেষ প্রোটোকল চালু করতে পারে। এই প্রোটোকলে থাকতে পারে—
মেডিক্যাল বোর্ডের মুখপাত্র
হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা
সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি
সাংবাদিকদের একটি নির্বাচিত প্রতিনিধি দল
এদের মাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফিং দিলে—
➡ গুজব ছড়ানোর সুযোগ কমবে,
➡ সাংবাদিকরা যাচাই করা তথ্য পাবেন,
➡ রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও বজায় থাকবে।
গণমাধ্যমের তথ্য অধিকার এবং রোগীর গোপনীয়তা—দুটিই আমাদের মূল্যবোধের অংশ। তাই যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জনসমক্ষে পৌঁছাতে হলে স্বচ্ছ, সুসংহত ও দায়িত্বশীল একটি নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। সত্য গোপন রাখা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনও অমানবিক।
রাষ্ট্রের উচিত এই দুইয়ের মাঝে একটি ভারসাম্য তৈরি করা—জনগণের জন্য, চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য।