কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয়দের একটি বড় অংশ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম লুৎফুর রহমান মোল্লার সুযোগ্য সন্তান আতাউর রহমান রিফাত মোল্লাকে আগামী চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, মরহুম লুৎফুর রহমান মোল্লা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে বিশ্বাসী একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং তিনি চার চারবার তেঘরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল, যা আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫৫) বলেন,“লুৎফুর রহমান মোল্লা ছিলেন মানুষের নেতা। তিনি চারবার চেয়ারম্যান হয়ে আমাদের জন্য অনেক কাজ করেছেন। এখন আমরা চাই তাঁর ছেলে রিফাত মোল্লা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক।”
জানা যায়, আতাউর রহমান রিফাত মোল্লা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানান। এতে করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আব্দুল্লাহপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“রিফাত মোল্লা শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীই নন, তিনি একজন ভদ্র ও সমাজসেবামূলক মানুষ। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আবার সাধারণ মানুষের জন্যও কাজ করেন। তাই আমরা তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
রাজেন্দ্রপুর এলাকার পান দোকানের ব্যবসায়ী মোঃ সাগর বলেন,“আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি আমাদের সমস্যাগুলো বুঝবেন। রিফাত মোল্লা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। ছোট-বড় যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পাওয়া যায়। তিনি চেয়ারম্যান হলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো কিছু করবেন বলে আমরা আশা করি।”
স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম বলেন,“আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি রাজনীতির পাশাপাশি উন্নয়নমুখী চিন্তা করবেন। রিফাত ভাই আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা।”
নারী ভোটারদের মধ্যেও তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন,
“আমরা চাই একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক চেয়ারম্যান। রিফাত মোল্লা মানুষের কথা শোনেন এবং সহানুভূতিশীল—এই কারণে আমরা তার ওপর আস্থা রাখি।”
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় রিফাত মোল্লার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন ঘোষণা হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। সেই আলোচনায় আতাউর রহমান রিফাত মোল্লার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে, তেঘরিয়া ইউনিয়নের জনগণ এমন একজন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন, যিনি অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ এবং উন্নয়ন ভাবনা—এই তিনের সমন্বয়ে কাজ করতে পারবেন। আর সেই বিবেচনায় অনেকেই আতাউর রহমান রিফাত মোল্লাকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।