নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য সেলিম মোল্লা। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিম মোল্লা একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা নেতা। তিনি তেঘরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাদের আলী মোল্লার নাতি। পারিবারিকভাবে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় তিনিও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিম মোল্লা দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি তেঘরিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। সেলিম মোল্লা পশ্চিমদি আইডিয়াল স্কুলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্থানীয় শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়রা জানান, বিগত রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে যখন অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড করতে সাহস পাননি, তখন সেলিম মোল্লা তেঘরিয়া ইউনিয়নে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সাহসিকতা দেখিয়েছেন। এমনকি অতীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে তাঁকে একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সরেজমিনে তেঘরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় জনগণের একটি অংশ সেলিম মোল্লার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, সংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা ইউনিয়নের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তেঘরিয়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন,
“সেলিম মোল্লা দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। আবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও কাজ করছেন। এমন একজন মানুষ চেয়ারম্যান হলে তিনি জনগণের কষ্ট বুঝবেন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন,“আমাদের ইউনিয়নে এখনও অনেক উন্নয়ন বাকি। সেলিম মোল্লা যদি নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করবেন এবং উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।”
যুব সমাজের মাঝেও তাঁর জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় যুবক রাকিব হাসান বলেন,“যখন কেউ রাজনীতি করতে সাহস পায়নি, তখন সেলিম ভাই মাঠে ছিলেন। তিনি সবসময় দলের জন্য এবং মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই এমন একজন চেয়ারম্যান।”
জানা গেছে, সেলিম মোল্লা ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নিচ্ছেন। তিনি উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে সেলিম মোল্লা বলেন,“আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। আমার দাদা নাদের আলী মোল্লা মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম, ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবো।”
তিনি আরও বলেন,“তেঘরিয়া ইউনিয়নের জনগণ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে একটি আধুনিক, উন্নত ও সেবামূলক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
সব মিলিয়ে, তেঘরিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সেলিম মোল্লার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, সাহসিকতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে একজন শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।