চীফ রিপোর্টার আ.ন.ম. লুৎফুর রহমান: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জটিয়াপাড়া ছালাবান্দা গ্রামের সুমি আক্তার তার অসুস্থ শিশু সন্তান সাফিয়ান আহম্মেদকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত সন্তানকে বাঁচাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এই অসহায় মা।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই উভয় পরিবারের সম্মতিতে শামীম আহম্মেদ ও সুমি আক্তারের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের প্রায় চার বছর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় একমাত্র পুত্র সন্তান সাফিয়ান আহম্মেদ।
ভুক্তভোগী সুমি আক্তার জানান, সন্তানের বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন তার স্বামী শামীম আহম্মেদ চাকরির কথা বলে তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। এরপর দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি, এমনকি ভরণ-পোষণের দায়িত্বও পালন করেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর অবস্থান জানতে চাইলে শামীম আহম্মেদ তাকে তালাক দেওয়ার কথা জানান। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত কাগজ তিনি পাননি। বরং যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে ও তার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে সুমি আক্তার তার অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। শিশু সাফিয়ান দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছে এবং প্রায়ই বাবাকে খোঁজে—যা মায়ের জন্য এক অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুমি আক্তার বলেন,“আমার সন্তান যখন বাবাকে দেখতে চায়, কোলে উঠতে চায়, তখন বুকটা ভেঙে যায়। মনে হয়, সে অনেক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে।”
অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানের চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণের ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তার পরিবার। এতে দিন দিন আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মা ও শিশুটিকে।
সবশেষে, সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যর্থ হওয়ায় সুমি আক্তার আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মাদারগঞ্জ থানায় একটি সি.আর মামলা (নং- ৮৩২(১)/২৫) দায়ের করেন। মামলায় শামীম আহম্মেদসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালত প্রধান আসামি শামীম আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও এখনো পর্যন্ত তিনি পলাতক রয়েছেন। এমনকি আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন,“মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। আসামি বর্তমানে বাড়িতে না থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে মামলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এ অবস্থায় অসহায় সুমি আক্তার তার অসুস্থ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।