রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি জানানো হলেও দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার গত ৫ জুন রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ জুন রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একটি ভিডিও পাঠান। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় ফোন করে বিরক্ত করা, পরিচিতজনদের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা এবং তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এসব ঘটনার কারণে তার পারিবারিক জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তার দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, “আমি দলীয় নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
রাঙামাটি সদর থানার ওসি বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম এবং রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।