চীফ রিপোর্টার আ.ন.ম. লুৎফুর রহমান:জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সড়কে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ প্রায় শেষ দিকে।
ওপর দিকে ভূমি অধিগ্রহন থেকে দ্রুত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে অপসারণে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার ১৬ মার্চ জামালপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) তানভীর হায়দারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জামালপুরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল হক ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী আকরাম হোসেন তালুকদার, সেতুর প্রজেক্ট ম্যানেজার জিল্লুর রহমান।
ভূমি অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে স্থাপনা না সরানোর বিষয়টি নিয়ে গত রোববার দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর নির্দেশে ১৬ মার্চ সোমবার দুপুরে কঠোর অভিযান চালানো হয়। এসিল্যান্ড তানভীর হায়দার প্রথমে নান্দিনা বাজারে রানাগাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে সেতু ও ভূমির নকশা এবং ওই এলাকার অধিগ্রহণকৃত জমির কাগজপত্র দেখেন। এ সময় অধিগ্রহণকৃত অন্তত ২০ জন ভূমি মালিককে অফিসে ডেকে স্থাপনা না সরানোর কৈফিয়ত চান। পরে তিনি সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নান্দিনা বাজার অংশে যান এবং অধিগ্রহণকৃত ভুমি মালিকদের দ্রুত তাদের স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দেন। এ জন্য তিনি তাদের সাত দিনের সময় দেন। অন্যথায় তাদের স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ব্রহ্মপুত্র নদের কারণে জামালপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়নের সঙ্গে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই নান্দিনা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিতে ভরসা একমাত্র নৌকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার জন্য পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জামালপুরের নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সড়কে বহ্মপুত্র নদীর ওপর ৬০৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রন্থের একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। সেতু নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেতুর দুই প্রান্তের ৩ একর ৬০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটির কাজ অর্ধেকও শেষ না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৮ জুন করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ ৭-৮ মাস কাজ বন্ধ থাকে। পরে কাজ শুরু হলেও চলছে ধীর গতিতে। এর মধ্যেই দেখা দেয় ভিন্নরকম অজুহাত । সেতুর উভয় প্রান্তে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নান্দিনা বাজার অংশে টাকা নিয়েও প্রকল্প স্থান থেকে অনেকেই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন না। ফলে আটকে আছে ব্রীজটির কাজ।
ভূমি অধিগ্রহনের ৭ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মানাদিম কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।