• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
Headline
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ জামালপুরের মেলান্দহে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, বিতরণ ৪ লাখ টাকার যুব ঋণ

কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ, বিচারহীনতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২৭০ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

তথ্য-প্রমাণ থাকার দাবি, তবুও ব্যবস্থা নেই—মহিলা কারারক্ষী জেসমিন আক্তারসহ একাধিক ঘটনায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারা বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ একের পর এক সামনে এলেও এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। অতীতের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা বলছেন, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় কারা বিভাগের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, কখনো বন্দীর স্ত্রী বা স্বজন, কখনো বিভাগের নারী কারারক্ষী, আবার কখনো নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ বা সম্পর্কের অভিযোগ উঠছে কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে দায়ী ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের ঘটনায় বিচার নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে ঘিরে একজন বন্দীর স্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। এতে কারা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এত বড় একটি অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। বরং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

সিলেটের ঘটনাতেও ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ডেপুটি জেলার মনিরুল হাসান পলাশকে ঘিরে এক নারীর সঙ্গে হোটেলে অবস্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তাদের দাবি, এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় দায়িত্বে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্নও সামনে আসে।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার দিদারুল আলমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীকে অনৈতিক/আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ফলে অভিযোগটি সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীর প্রশ্ন, যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি অন্যান্য ঘটনার মতো বিষয়টি সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে যাবে?

জেসমিন আক্তারকে ঘিরে সর্বশেষ অভিযোগ

কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই মহিলা কারারক্ষী জেসমিন আক্তারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন তার স্বামী।

তার দাবি, জেসমিন আক্তারের সঙ্গে কয়েকজন কারা কর্মকর্তার যোগাযোগ ও কথোপকথনের বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক ফোনকল ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তের আওতায় এনে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় যাদের নাম অভিযোগের সঙ্গে সামনে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিআইজি (প্রিজন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, জেলার জাহিদুল আলম এবং ড্রাইভার কামাল হোসেনসহ অনেকেই।

অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের যোগাযোগের কল রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তদন্ত আছে, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়?

অভিযোগকারীদের মূল প্রশ্ন এখানেই—একটির পর একটি অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো কর্মকর্তা দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি?

তাদের অভিযোগ, তদন্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে রেহাই পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের জেল সুপার দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, জেসমিন আক্তারকে ঘিরে চলমান তদন্ত এবং অতীতে মুন্সিগঞ্জ ও সিলেটের আলোচিত ঘটনাগুলো সামনে রেখে অভিযোগকারীরা কারা বিভাগের অভ্যন্তরে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীর প্রশ্ন—“তথ্য-প্রমাণের পরও ব্যবস্থা নেই কেন?”

অভিযোগকারীর বক্তব্য, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

“তদন্ত যদি হয়, তথ্য-প্রমাণ যদি যাচাই করা হয়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে কুকর্মে জড়িত কর্মকর্তা প্রমাণিত হলে তারা বারবার রেহাই পাচ্ছেন কেন?”

কারা বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযোগ ধামাচাপা নয়, বরং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তি যেই হোন না কেন তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি—এমনটাই দাবি অভিযোগকারীদের।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category