• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
Headline
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ

ঈশ্বরদীতে ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ বৃদ্ধ পিতা আব্দুল গণি

ঈশ্বরদী পাবনা প্রতিনিধি: মোঃ বকুল হোসেন / ১০৭ Time View
Update : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

স্টাফঃ রিপোর্টার ঈশ্বরদী,,পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজের সন্তানের হাতেই বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন এক বৃদ্ধ পিতা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে বাকি পথ চলার কথা, সেই ছেলের হাতেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি—এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে ঈশ্বরদীতে।

ভুক্তভোগী মো. আব্দুল গনি প্রামানিক (৭৪), উপজেলার পাকশী এলাকার বাঘইল পূর্বপাড়া (সাঁকোর মুখ) গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মানুষটি অভিযোগ করেছেন, তারই বড় ছেলে মো. উজ্জল প্রামানিক (৪৫) ও পুত্রবধূ মোছা. কনা খাতুন (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে তাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পিতার শেষ সম্বল নিজের নামে লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

থানায় লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায়ই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো, করা হতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। ঘটনাটি যেন সব সীমা অতিক্রম করে যায়। বসতভিটা ও জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অসহায় বৃদ্ধ যখন দৃঢ়ভাবে না বলেন, তখনই নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী, ছেলে উজ্জল প্রামানিক তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় পুত্রবধূ কনা খাতুন তাকে চেপে ধরে রাখেন। এরপর ঘর থেকে একটি জিআই পাইপ এনে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন ছেলে।

এক পর্যায়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে প্রাণ বাঁচাতে সরে গেলে আঘাত গিয়ে লাগে তার বাম কাঁধে। এতে সেখানে রক্তাক্ত জখম, ফুলে ওঠা ও কালশিরা পড়ে যায়। নির্দয় এই হামলার মধ্যেও থামেনি হুমকি—প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয় বারবার।

বৃদ্ধের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে আপাতত প্রাণে বেঁচে থাকলেও, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

চোখে জল নিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল গনি প্রামানিক বলেন, যে ছেলেকে এতো কষ্ট করে মানুষ করলাম, আজ সেই ছেলের হাতেই মার খেতে হচ্ছে। এখন আমরা কোথায় যাবো, কার কাছে বিচার চাইবো।

তার স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগমও একই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা জানান, যে কোনো সময় আবারও হামলার শিকার হওয়ার ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনায় বৃদ্ধ পিতা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আকুতি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category