• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
Headline
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফাতেহা মাসকুরার দীর্ঘদিন হৃদরোগ হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯৪ Time View
Update : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বামী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং হাইকোর্টে ফাঁসির রায় বহাল থাকা আসামি ফাতেহা মাসকুরার দীর্ঘদিন জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্ন। হাসপাতালের সাততলার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০ নম্বর বেডে দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে সাধারণ রোগী, স্বজন ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফাতেহা মাসকুরাকে অন্তত সাতবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই কারাগারে নেওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অদৃশ্য প্রভাব ও বিশেষ সুবিধার বলয়ে থেকেই বারবার হাসপাতালে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, হৃদরোগ হাসপাতাল মূলত জরুরি ও জটিল রোগীদের স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। অথচ একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মাসের পর মাস একই বেডে অবস্থান হাসপাতালের স্বাভাবিক নিয়ম ও বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে এতদিন হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।” তবে সাতবার ছাড়পত্র দেওয়ার পরও কীভাবে পুনরায় ভর্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ হার্ট অ্যাটাক হলে একজন রোগীকে ৩ থেকে ৫ দিন, হার্টে রিং বা স্টেন্ট পরালে ২ থেকে ৩ দিন এবং ওপেন হার্ট সার্জারির পর সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ দিন হাসপাতালে রাখা হয়। খুব জটিল পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য সাধারণত রোগীকে বাসায় নিয়ে হোম কেয়ার বা বিশেষ পুনর্বাসন ব্যবস্থার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং একটি বেড দীর্ঘসময় দখল হয়ে থাকায় জরুরি রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন শত শত মুমূর্ষু হৃদরোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলেও একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জন্য দীর্ঘসময় বেড বরাদ্দ থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এদিকে ফাতেহা মাসকুরার পুনঃপুন ভর্তি, ছাড়পত্রের পরও কারাগারে না ফেরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ঘিরে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছে, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category