কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: ভৈরব উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাদক মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে কারাভোগ শেষে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। বিশেষ করে কারাগারে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কারা সূত্রে জানা যায়, ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল (৩৯), পিতা মৃত আলী হোসেন, গ্রাম ভৈরবপুর উত্তর পাড়া, থানা ভৈরব, জেলা কিশোরগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে দায়রা-২২/১৭, ভৈরব থানার মামলা নং-০৪(১০)১৬, জিআর নং-৭৫২(২)১৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯(খ) ধারায় মামলা রয়েছে। তিনি গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রবেশ করেন এবং ২৫ মে ২০২৬ তারিখে জামিনে মুক্তি পান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কারাগারে এর আগেও তিনি একাধিকবার এসেছেন বলেও জানা যায়।
কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কারাগারে অবস্থানকালে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা পরিচয় দিয়ে কারা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিশেষ ওয়ার্ডে অবস্থান, অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ এবং সাধারণ বন্দিদের তুলনায় ভিন্ন আচরণ পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভূত কোনো সুবিধা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া গোলাম সারোয়ার জিহাদ বলেন, “আমার সাথেই ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল কারাগারে অবস্থান করেছে। গণঅধিকার পরিষদের পরিচয় ও দাপট দেখিয়ে তিনি কারা হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতেন। সাধারণ বন্দিদের মতো না থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও তিনি দলটির শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর সম্পর্কেও বিভিন্ন সময়ে বিরূপ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।”
এদিকে ভৈরব উপজেলার জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য হয়েও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মিছিল-মিটিং ও প্রচারণায় অংশ নেন। অথচ সে সময় গণঅধিকার পরিষদ বিএনপি জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বিভিন্ন সময়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য শরিফুল আলম এমপিকেও নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল এবং পরে সুবিধা না পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের পুরনো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, “আমি কারাগারে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করিনি। বিভিন্ন মহলের বিরুদ্ধেও আমি কোন কুৎসা রটনায় লিপ্ত নই।”