মহিলা কারারক্ষী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: মহিলা কারারক্ষী নং ২২২২৭ জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে তার স্বামী মোঃ রবিউল আওয়াল কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তবে চলমান তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী মোঃ রবিউল আওয়াল। তার অভিযোগ, তদন্ত কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ঢাকা বিভাগ-২) নাহিদা পারভীন নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের দায়মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এমনকি তিনি আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এই মুহূর্তে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা বা অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগকারী রবিউল আওয়াল বলেন, তার অভিযোগের সমর্থনে তিনি তদন্ত কমিটির কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে অডিও রেকর্ড, কল রেকর্ড, WhatsApp কলের স্ক্রিনশট, স্বীকারোক্তি, স্ট্যাম্পে লিখিত স্বীকারোক্তি, মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল উপাত্ত।

তার দাবি, বিশেষ করে ডিআইজি প্রিজন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, জেলার মোহাম্মদ জাহিদুল আলম এবং ড্রাইভার মোঃ কামাল হোসেনের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের তদন্ত চলাকালীন সময়েও WhatsApp-এ একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য তিনি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করেছেন।
রবিউল আওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের WhatsApp যোগাযোগ, কল এবং মেসেজ আদান-প্রদানের বিভিন্ন তথ্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা প্রদান করেছেন এবং তার কাছেও রয়েছে। এসব তথ্যের প্রকৃত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি তদন্ত কমিটির কাছে সংশ্লিষ্টদের কল ডিটেইলস, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য আইনানুগভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
স্বীকারোক্তির দাবিও তদন্তে উপস্থাপনের কথা অভিযোগকারীর
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার তার কাছে বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে স্বেচ্ছায় বক্তব্য দিয়েছেন, যা তিনি জোরপূর্বক বা শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন রবিউল আওয়াল।
তার ভাষ্য, ওই বক্তব্যের সমর্থনে তার কাছে থাকা কল রেকর্ড, অডিও রেকর্ড এবং লিখিত/স্ট্যাম্পে দেওয়া বক্তব্যের কপি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রবিউল আওয়ালের দাবি, এসব তথ্য-প্রমাণ তদন্তের অংশ হিসেবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু তার অভিযোগ, তদন্তকারী পক্ষ এসব তথ্য যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই না করে অভিযুক্তদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অভিযোগকারী বলেন, তার অভিযোগের পর যখন তদন্ত কার্যক্রম চলছিল, তখনও অভিযোগে উল্লিখিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে জেসমিন আক্তারের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
তার প্রশ্ন—তদন্ত চলাকালীন অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত WhatsApp কল, মেসেজ ও যোগাযোগের কারণ কী?
রবিউল আউয়াল বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে অভিযোগ করছি না। আমি চাই, আমার দেওয়া তথ্য-প্রমাণ তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করুক। কার সঙ্গে কতবার কথা হয়েছে, কখন কথা হয়েছে, কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে—এসব আইনানুগভাবে যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগকারীর প্রশ্ন
রবিউল আওয়ালের অভিযোগ, তিনি তদন্ত কমিটির কাছে একাধিকবার প্রমাণাদি উপস্থাপন করলেও সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। তার দাবি, তদন্ত কমিটির সভাপতি নাহিদা পারভীন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থাকা তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পরিবর্তে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “আমি চাই না কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক। আবার অভিযোগের সত্যতা থাকলে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিও যেন তদন্তের বাইরে না থাকেন। আমার দাবি একটাই—নিরপেক্ষ তদন্ত।”
তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপিত WhatsApp কল, মেসেজ, কল রেকর্ড, অডিও রেকর্ড, লিখিত বক্তব্য ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
অভিযোগকারী রবিউল আওয়াল বলেন, তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে তিনি তদন্ত কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান।
তার ভাষ্য, “তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেটিও তদন্তের বাইরে থাকা উচিত নয়। কারণ তদন্তের নিরপেক্ষতার ওপরই পুরো বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে।”
সবশেষে অভিযোগকারী মোঃ রবিউল আওয়াল বলেন, তিনি কারা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চান না; বরং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন।
তার দাবি, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তার কাছে থাকা সকল নথি ও ডিজিটাল তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করারও দাবি জানাবেন।