নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে থানার আশপাশের কিছু কম্পিউটার দোকানে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে রানা কম্পিউটারের প্রোপ্রাইটর রানা হামিদ ও তার ছোট ভাই আবু হাসনাত রাতুলের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে গালিগালাজ, জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। পেশায় সাংবাদিক মোঃ রবিউল আওয়াল,এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে রবিউল আওয়াল জানান, তার চাচাতো ভাই জামালের চুরি হওয়া একটি গরু কালিয়াকৈর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত গরুটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রহণের জন্য তিনি থানায় আসেন। এ সময় থানার এসআই রেজাউল করিমের পরামর্শ/নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ মার্কেটের রানা কম্পিউটার দোকানে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়।
পরে ওই কাগজপত্রের বিষয়ে খোঁজ নিতে রানা কম্পিউটারে গেলে রানা হামিদ ও আবু হাসনাত রাতুল তার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল আওয়াল।
একপর্যায়ে রানা হামিদ ও আবু হাসনাত রাতুল তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে মারধরের চেষ্টা করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানার সেবা নিতে এসে কেন দোকানদারের কাছে যেতে হবে?
অভিযোগকারীর দাবি, কালিয়াকৈর থানায় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে কাগজপত্র তৈরি অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য থানার আশপাশের কম্পিউটার দোকানগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
এ সুযোগে রানা হামিদ ও আবু হাসনাত রাতুলের মতো কিছু দোকানদার নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করছেন কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অনুসন্ধানে তিনি জানতে পেরেছেন, থানার কয়েকজন এসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বা সংশ্লিষ্টতার কারণে কিছু কম্পিউটার দোকানদার সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে থানায় আসা সেবাপ্রার্থীদের কেউ কেউ ওইসব দোকানে গিয়ে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসআইদের সঙ্গে রানা হামিদ ও আবু হাসনাত রাতুলের এমন কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মোঃ রবিউল আওয়াল বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন কোনো ব্যক্তি বা কম্পিউটার দোকানের কাছে জিম্মি হয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি তার ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে রানা হামিদ ও আবু হাসনাত রাতুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।