• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
Headline
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ

সকাল ১১টায় অফিসে নেই ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল, আসেন দুপুরে—সিসিটিভি ফুটেজেই মিলবে সত্যতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৩৩ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের অফিসে উপস্থিতি ও নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় নিয়মিতভাবে তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায় না এবং কোনো কোনো দিন দুপুর ১২টার দিকে তিনি অফিসে উপস্থিত হন।

১১/১০/২০২৬ ইং সরেজমিনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় ডিআইজি প্রিজন কার্যালয়ে গিয়ে সকাল ১১টার দিকে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন—একজন বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি সকাল ১১টার সময়ও কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে তার অফিসে প্রবেশের প্রকৃত সময় কত?

সরকারি নির্দেশনায় অফিসে উপস্থিতির সময় নির্ধারিত

সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও রয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনাটির উদ্দেশ্যের মধ্যে অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও বিধিমালাটি সরকারি বিধানিক তথ্য হিসেবে প্রকাশিত রয়েছে।

ফলে সকাল ১১টার সময়ও কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয় নয়; বরং সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক প্রশ্ন হিসেবেও তা বিবেচিত হতে পারে।

সিসিটিভি ফুটেজে এবং অনলাইন হাজিরায় মিলতে পারে প্রকৃত তথ্য

অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি প্রিজন কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অনলাইন হাজিরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অফিসের প্রবেশপথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম কখন কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন এবং কখন বের হয়েছেন—তা সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

শুধু সিসিটিভি নয়, অফিসের উপস্থিতি রেজিস্টার, হাজিরা সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট দিনের সরকারি কার্যক্রমের রেকর্ড পর্যালোচনা করলেও বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে অফিসিয়াল নথির মিল রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কারা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন ডিআইজি প্রিজনের ওপর বিভাগের বিভিন্ন কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তদারকি, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায়িত্ব রয়েছে। তাই বিভাগীয় প্রধানের নিয়মিত অফিস উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, ডিআইজি প্রিজনের অফিসে উপস্থিতির বিষয়ে যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে অনুমান বা ব্যক্তিগত বক্তব্যের পরিবর্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও অফিসিয়াল উপস্থিতির নথি যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এতে অভিযোগের সত্যতা সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র

ময়মনসিংহ বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অফিসে বিলম্বে উপস্থিতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ, উপস্থিতি রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট দিনের সরকারি কার্যক্রম যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

সরকারি নির্দেশনায় যখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে, তখন সকাল ১১টার সময় একজন বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে পাওয়া না গেলে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সময়মতো অফিসে না আসার বিষয়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম কে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—সকাল ১১টার সময় ডিআইজি প্রিজন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন কি না? সিসিটিভি ফুটেজ, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং সরকারি নথিই দিতে পারে এর নিরপেক্ষ উত্তর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category