বকুল হোসেন, প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিন ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম ও সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন দায়িত্বশীল শিক্ষক সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) ও নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আড়াল করতে কিছু সংবাদকর্মীকে ব্যবহার করে পূর্বে প্রকাশিত সংবাদকে ভুল বা মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, পরীক্ষা না দেওয়া এক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে মেডিকেল সনদ সংগ্রহের মাধ্যমে অনুপস্থিতির বিষয়টি বৈধ দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সত্য হলে তা কীভাবে ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বৈধতা কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এর আগে এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয়রা বলেন, প্রায় দুই মাস সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
তবে সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছগির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সাক্ষাৎকালে বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোম্মদ সোয়াবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য কি না তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, পরীক্ষার রেকর্ড, উপস্থিতির তথ্য, মেডিকেল সনদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।