কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলায় ‘পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশন (PBGSI)’ স্কিমের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রোগ্রামের (SEDP) অংশ হিসেবে ২০২২ ও ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি ২১ জুলাই সোমবার তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক ছিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কাশেম।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আহসানুল জাহিদ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কুতুব উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রিফাত শারমিন। বক্তব্য রাখেন দিগদাইড় ইউনিয়ন মডেল হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সারোয়ার আলম, পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সাইদুজ্জামান, আক্তার আছেফা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সামীর হোসেন সাকী, কাজলা আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মজিবুর রহমান, তাড়াইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি ও দিগদাইড় ইউনিয়ন মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খন্দকার,তালজাঙ্গা ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ ওয়ালী উল্লাহ, সাংবাদিক রবীন্দ্র সরকার, তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম তপু।
প্রধান অতিথি শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর মেধা ও প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখা। সরকার যে এই গ্রান্ট কর্মসূচি চালু করেছে তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ। এই সম্মাননা শিক্ষার্থীদের শুধু পুরস্কৃতই করছে না, বরং আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফল করার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।”
২০২২ ও ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা প্রাপ্ত এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি। এটা আমাকে আরও ভালোভাবে লেখাপড়া করতে উৎসাহিত করেছে। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার শিক্ষক ও অভিভাবকদের।”
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও শিক্ষামূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং আয়োজক কমিটির সদস্যগণ সফলভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদেরকে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে অনুপ্রাণিত করে। সরকারী এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং তাদেরকে সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রেরণা যোগাবে।