মোঃ তৌহিদুল ইসলাম: মাইলস্টোন কলেজ ট্রাজেডি চারদিকে যে আর্তনাদ, আহত-নিহতদের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হওয়া, অনেক মায়ের বুক খালি হওয়া, অনেক পিতা সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ, অনেক মা বুক চাপরিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন।সকলের চোখই অশ্রুসজল। লাশের সারি, পুড়া লাশের গন্ধ, পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে শিশুদের দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা, এক মহীয়সী শিক্ষিকা তাঁর ছোট্ট শিশুগুলোকে বাচাতে গিয়ে বলেছেন, ” তোমরা দৌড়াও, দৌড়াও আমি আছি। এভাবে বিশজন ছোট ছোট শিশুর জীবন বাঁচিয়ে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। নিজের দুটি সন্তানের এতিম হয়ে যাওয়ার কথা তাঁর মাথায় আসে নাই। কারণ এই অবুঝ শিশুগুলোর আদর্শিক মা’ও সে।
শতশত মানুষ উদ্ধার কাজ চালিয়েছেন। শতশত চিকিৎসক নার্স চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রক্ত দিচ্ছেন অনেক ভাইবোন। সারাদেশ শোকে স্তব্ধ, কারো মুখে হাসি নেই। কেঁদেছে কোটি হ্রদয়, আজও কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। বারান্দা, বেলকনিতে দাঁড়িয়ে, বেডরুমে, ফোনের দু’প্রান্তে শুধুই কান্না। রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়েছে। আজ আমাদের সন্তান, স্বজন হারিয়ে আমরা শোকাভিভূত। চোখের জলে বুক ভাসছে সবার। নববিবাহিত সেই পাইলটের পরিবারও আজ শোকের সাগরে ভাসছে। অনেক পিতামাতা তাদের একমাত্র সন্তান হারিয়েছে, কেউ কেউ হারিয়েছে দু’সন্তানই, কারো একজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, আরেকজন হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে দগ্ধ শরীর নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। আল্লাহ তাদেরকে সুস্থ করে তাদের পিতামাতার কোলে ফিরিয়ে দিক, ফিরে আসুক আমাদের মাঝে। মায়ের আর্তনাদ আর চোখের জলে ডুবে না যাক পরিবারগুলো।
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে একটি কথা খুব দরকারী মনে হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ কোন শহর, গঞ্জে সামরিক বেসামরিক কোন বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কখনো থাকা বা রাখা উচিত নয়। এমন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আহত মানুষের আহাজারিতে যেন আকাশটা ভারি না হয়ে যায়। যে আকাশে বিমান উঠে সেই আকাশটাই যেন বিপদের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
লেখক : মোঃ তৌহিদুল ইসলাম
কারা উপ মহাপরিদর্শক (রংপুর বিভাগ)