আ.ন.ম. লুৎফর রহমান (জামালপুর): সম্প্রতি ‘চ্যানেল আর’ এ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জট খুলছে তান্ত্রিক গুর“দের, তাদের সাধনা, ভজনগুলো যেন টাকা হাতিয়ে নেওয়ারই গল্পের শেষ অধ্যায় নয়। তাদের অনলাই চকটদার কবিরাজি জ্বীন,পেত্নী ও কালী’র মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার ভিডিও গুলো ভাইরাল করার জন্য অহেতোক কিছু বয়ান দিয়ে মাছের মুখে তাবিজ কবজ ভরে দিয়ে নদীর পানিতে ছেড়ে দেয়া, কাগজে উপর অংশে বড়শি, সুঁই, লোহার তাবিজসহ নিচের অংশে চুম্বকশক্তি ধারন করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চকটদার ভিডিও করে ভাইরাল করে তান্ত্রিকগণ, এতেই ভোক্তভোগিরা বিশ্বাসের সাথে ইমো হোয়াটসঅ্যাপ’র মাধ্যমে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাদের কাছ থেকে আসন খরচসহ পরে বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়, যাহা ইতিপূর্বে ‘চ্যালেন আর’ এ প্রশাসন ও পাঠানের জ্ঞাতার্থে তোলেধরা হয়েছিল। সম্প্রতি এই অবৈধ তান্ত্রিক ব্যবসা প্রথম কোথায় থেকে আগমন হলো সেটা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে। সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে জানা গেছে, তান্ত্রিক ব্যবসাটা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন ধনবাড়ি এলাকা থেকে মোঃ মিয়া উদ্দিনের ছেলে বিদ্যুৎ হোসেন তার মামার কাছ থেকে গোপনে একটি টিকটক তান্ত্রিক আইডি হোয়াটসঅ্যাপের কপি লিং নিয়ে আসে।
তারপর বিদুৎ হোসেন একা নির্জনে এই তান্ত্রিকের ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার মালিক হলে এলাকার কিছু অসাধু লোকের চোখে কাল হয়ে পড়ে। সরেজমিন ঘুরে আরও জানা যায়, সেই বিদুৎ মিয়া একসাথে ৫টি মোবাইল দিয়ে তান্ত্রিক ব্যবসা চালাতো দুটি মোবাইল ছিল দুপায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলের ফিঙ্গার টাচ ওপর দুটি ছিল দুহাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলের ফিঙ্গার টাচ সর্বশেষ মোবাইলটি ছিল জিব্বার টাচ এভাবেই ৫টি মোবাইলে তান্ত্রিক ব্যবসা করে আসছিল বিদ্যুৎ। জোরজবরদস্তি করে অজ্ঞান করে মাদকদ্রব্য সেবন করায় মোঃ আব্দুল জলিল মিয়া’র ছেলে মোঃ ইসলামসহ মোঃ সোহেল মিয়া ও আরো অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন একত্রে বিদ্যুৎ মিয়ার মোবাইল ছিনতাই করে ইসলাম গংরা।
বর্তমানে বিদ্যুৎ মিয়া পাগল অবস্হাশ জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে। ইসলামের হাত থেকেই ছড়িয়ে যায় জামালপুর সদর উপজেলার ৩নং লক্ষীচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকাসহ চান্দাপাড়া বাজার অতিক্রম করে শেরপুর জেলার ১৪নং ঘুঘুরাকান্দি এলাকায় জোরে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এই তান্ত্রিক ব্যবসা প্রায় এখন ঘরে ঘরে। এই ভূয়া তান্ত্রিক ব্যবসা যেন বর্তমানে নির্বাচনের মতো রূপ নিয়েছে। নির্বাচনের সময় যেমন লোকজন জমায়েত হলেই চায়ের দোকানে প্রার্থীদের নিয়ে কে শীর্ষে রয়েছেন। ঠিক তেমনি তান্ত্রিক বিষয়ে পাড়া-মহল্লা চায়ের দোকানসহ ‘চ্যালেন আর’ এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বর্তমানে অটো রিক্সার যাত্রীদের মাঝেও সমালোচনা হচ্ছে অহরহ। যাহা সাংবাদিক’র কাছে চায়ের দোকানের আলাপ আলোচনার প্রমানস্বরূপ রেকর্ড রয়েছে।
রেকর্ড সূত্রে বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে ভূয়া তান্ত্রিকের শীর্ষ স্হানে রয়েছে মৃত কুদ্দুস সরকারের ছেলে মোঃ রাজু সরকার। রাজু সরকার তান্ত্রিকের পাশাপাশি তান্ত্রিক আইডি বিক্রিসহ মাদক কারাবারির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেও বলে উল্লেখ রয়েছে। আর রাজু সরকারের সাথে ধরণা দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির এক নামধারী নেতা। চরযর্থাপুর ভাটিপাড়া ও উজানপাড়া গ্রামে ওই নেতার ছত্রছায়ায় ভূয়া তান্ত্রিক রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে,পূর্বের সংবাদে নামধারী তান্ত্রিকসহ আরো অনেকেই।
অপরদিকে টিকটক কবিরাজি আইডিধারী হলো ইয়াসিন তান্ত্রিক কবিরাজ’র নাম্বার ০১৯৯৪-৭০৯০১, তান্ত্রিক কবিরাজ’র জাহির’র টিকটক কবিরাজির নাম্বার ০১৬০০-৪৯৯৯৭৮, মনছুর পাগলা তান্ত্রিকের আইডি ০১৮৪৩-৭৪৩৬৭৮, গুর“ খোরশেদ আলী আইডি নাম্বার ০১৮১১-৩৬২২৪৫, তান্ত্রিক কবিরাজ ০১৮৪০-৩৫২০৭৬, কবিরাজি কাজ করা হয় ইসলামি আমল, ০১৪০০-৩০৯৫২০, ও চান্দাপাড়া বাজার এলাকার বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন মোঃ মহম মিয়ার ছেলে মোঃ বকুল মিয়া, অন্য দিকে হ্যাকার কাজে রয়েছে মোঃ বকুল মিয়ার ছেলে মোঃ আরমান হোসেনহ পূর্বে উলেখিত সংবাদে নামধারী ভূয়া তান্ত্রিকগণ। উল্লেখ্য প্রশাসন যদি সঠিকভাবে নেটওয়ার্ক’র মাধ্যমে খতিয়ে দেখে এই নাম্বারগুলো কোথায়, কোন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দৈনিক কত টাকা লেনদেন হয় সেটাও কেবল প্রশাসনের ধারা সম্ভব রয়েছেন বলে সচেতন মহলের অভিমত।
এই ভূয়া তান্ত্রিকগণ কোথায় থেকে কাহার বাহকে অন্যের নামে বিকাশ লিপিবদ্ধ সীম কার্ড কত টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে থাকেন কোন দোকান থেকে ভূয়া তান্ত্রিকগণ সীম কার্ড ক্রয় করে থাকেন তাহা পরবর্তীতে প্রশাসন ও পাঠকের জ্ঞাতার্থে জানানো হবে।