কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:বিকেলের সূর্য তখন আস্তে আস্তে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঠিক বিকেল ৫টা। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে একে একে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। কারও হাতে দলের পতাকা, কারও কণ্ঠে স্লোগানের ঢেউ—“শুভ শুভ শুভদিন, বিএনপির জন্মদিন”, “আজকের এই দিনে জিয়া তোমায় মনে পড়ে”, “জিয়ার সৈনিক এক হও এক হও।”
উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনেই যেন মিনি মেলা বসে গেছে। নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তে জমে ওঠে চারপাশ। অল্প কিছুক্ষণ পর কার্যালয় থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। সদর বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করার সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মানুষজনও দেখতে থাকেন এই শোভাযাত্রা। হাসি-আনন্দে, স্লোগানের তালে তালে র্যালি শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয় আয়োজন।
এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। মঞ্চে উঠে কণ্ঠে আবেগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার হোসেন লিটন। তিনি বলেন,
“আজ থেকে ৪৭ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের হাতে উপহার দিয়েছিলেন এ দল। তার আদর্শই আমাদের প্রেরণা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাকে হত্যা করে তারা ভেবেছিল বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির শিকড় এই দেশের মাটির অনেক গভীরে।”
লিটনের বক্তব্যে ভিড়ের মধ্যে স্লোগানের ঢেউ আবারও বয়ে যায়। উপস্থিত কর্মীরা হাততালিতে সমর্থন জানান। তিনি আরও যোগ করেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সতেরো বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছি। মামলা, হামলা, জেল, জুলুম—সবকিছু সহ্য করেছি। কিন্তু তবুও আমরা হার মানিনি।”
সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলমসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে সবাই এক কণ্ঠে শপথ নেন—ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে গণমানুষের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগানোর দিনে পরিণত করা।
তাড়াইলের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, চার দশক পেরিয়েও বিএনপি এখনো কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে বেঁচে আছে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর সংগ্রামের প্রত্যয়ে।