কুতুবউদ্দিন আহমেদ, (কিশোরগঞ্জ): করিমগঞ্জ উপজেলার দর্গাভিটা বাজারে উত্তর বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমাজসেবামূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেবা (SEBA)-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এক বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে প্রায় ৮০০ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী খ্যাতনামা চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শ্রেণি -পেশার লোকজন সেবা গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ: প্রায় ১৫০ জন নারী চিকিৎসা নেন,শিশুরোগ: প্রায় ২০০ জন শিশু রোগী সেবা পান।
চর্মরোগ ও এলার্জি: ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নেন।চক্ষু চিকিৎসা: ১০০ জন রোগী পরীক্ষা করান।নাক, কান, গলা: ৮০ জন রোগী সেবা নেন।ডায়াবেটিস ও মেডিসিন: ১৭৫ জন রোগী চিকিৎসা পান।অন্যান্য: প্রায় ১০০ জন রোগী সাধারণ সেবা পান।
সেবা সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মো. শামসুল হক ফরহাদ নবগঠিত কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো আবদুল আউয়ালের বরাত দিয়ে বলেন ” ৮০০ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৫৫০ জনকে প্রাথমিকভাবে ওষুধ সরবরাহসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ক্যাম্প চলাকালে ২০২৫-২৬ মেয়াদের নতুন উপদেষ্টা পরিষদ এবং ১৪০ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪০ জন সদস্যের নাম চূড়ান্ত করা হয়।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ করবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী দল বি এন পি নেতা ও করিমগঞ্জ-তাড়াইল নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশি এড. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন “অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি মহতি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।”
শিশুরোগ বিভাগের একজন উপকারভোগী, স্থানীয় গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন—
“আমার সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কাশিতে ভুগছিল। ডাক্তার দেখাতে টাকা জোগাড় করা কষ্ট হচ্ছিল। এখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পেরেছি, ওষুধও পেয়েছি। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
চক্ষু চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ কৃষক আবদুল কুদ্দুস মিয়া জানান—
“আমার চোখের সমস্যা নিয়ে অনেক দিন ভুগছিলাম। এখানে এসে বিনা খরচে পরীক্ষা করাতে পারলাম। ডাক্তার বললেন, চোখে ছানি পড়েছে। আগে জানতামই না। এখন অন্তত চিকিৎসার পথ বুঝতে পারছি।”
প্রসূতি বিভাগে আসা এক তরুণী মা মমতাজ আক্তার বলেন—
“গর্ভকালীন নিয়মিত চেকআপ করাতে পারি না। এই ক্যাম্পে ডাক্তার আমাকে বিস্তারিত পরীক্ষা করে পরামর্শ দিয়েছেন। আমার মতো গ্রামের নারীদের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ।”