কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার রাজেন্দ্রপুরের বাঘৈর এলাকায় সরকারি খাল দখল করে অবৈধ কারখানা নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের ওপর স্থাপনা তৈরি করে সেখানে একটি রিসাইকেল কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদ নুর আলম (স্থানীয়ভাবে ‘গোল্ডেন আলম’ নামে পরিচিত), পিতা মৃত জবেদ আলী, খালের জায়গা দখল করে অবৈধ কারখানা নির্মাণ করেন। পরে তিনি ১০ বছরের জন্য মাসিক ৬৫ হাজার টাকা ভাড়ায় স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে “মল্লিক এন্ড শরিফ রিসাইকেল প্লান্ট” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তা ভাড়া দেন।
চুক্তিপত্রে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ হিসেবে রয়েছেন—
১) হাবিবুর রহমান মল্লিক, পিতা সিরাজুল হক মল্লিক, থানা আলফাডাঙ্গা, জেলা ফরিদপুর
২) মোহাম্মদ ফিরোজ শরীফ, পিতা মৃত মোঃ মাহাতাব উদ্দিন শরীফ, থানা কদমতলী, জেলা ঢাকা
৩) সাগর আহমেদ, পিতা মোঃ মজিবর রহমান মল্লিক, থানা আলফাডাঙ্গা, জেলা ফরিদপুর।
এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া সাগর আহমেদ বলেন,“আমরা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়েছি। জায়গার মালিক বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। এটি সরকারি খালের জমি কিনা, সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। তবে খালের ওপরই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।”
অভিযুক্ত মোহাম্মদ নুর আলম এ বিষয়ে বলেন,
“আমি আমার ক্রয়কৃত জমিতে গোডাউন নির্মাণ করেছি। সরকারি খাস জমিতে কোনো স্থাপনা করিনি। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় এটি সরকারি খাস জমি, তাহলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা পরিচালিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুর আলম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, তিনি তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব খাটিয়ে কেরানীগঞ্জে জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, মাটিচুরি ও সরকারি খাল দখলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, খাল দখলের ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উক্ত গোডাউনে পরিবেশবিরোধীভাবে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য পোড়ানো হয়। এতে ঘন ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। বাসিন্দারা জানান, “রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।” তারা অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভূমি সহকারী কমিশনার আফতাব আহমেদ জানান,“বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।