স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ কার্যক্রম।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী মুকাম বাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রহমানের ছেলে সালেকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সালেক নিয়মিতভাবে “ওয়ান টেন জুয়া” নামে পরিচিত একটি জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে এখানে জড়ো হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে টাকার লেনদেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ জুয়ার আসর চালাতে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করা হচ্ছে। যার ফলে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “এই জুয়ার কারণে অনেক যুবক বিপথে চলে যাচ্ছে। কেউ কেউ ঋণে জড়িয়ে পড়ছে, পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পায় না।”
এলাকার সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সালেকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এমরানুল কবির বলেন,“পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
করিমগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কোথাও জুয়া বা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে এসেছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।