• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
Headline
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ

কিশোরগঞ্জে ফিলিং স্টেশনে কারারক্ষী লাঞ্ছনার অভিযোগ, ইউএনও’র বক্তব্যেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৭৮ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে এক কারারক্ষীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত এক কারারক্ষী মোটরসাইকেলে তেল নিতে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে গেলে সেখানে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে তার বুক থেকে ডিপার্টমেন্টাল আইডি কার্ড খুলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু প্রকাশ্যে একজন সরকারি কর্মচারীর বুক থেকে আইডি কার্ড খুলে নেওয়া তার ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী এবং পুরো ডিপার্টমেন্টকেও হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।”

এ বিষয়ে ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ তার বক্তব্যে বলেন, সংশ্লিষ্ট কারারক্ষী সিরিয়াল অতিক্রম করে তেল নিতে গেলে অন্যান্য মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি আরও দাবি করেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি এবং আইডি কার্ড দিতে বললেও তিনি দেননি। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপারকে অবগত করেছেন এবং উক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী কারারক্ষী তার বক্তব্যে বলেন, তিনি নিয়মিত ওই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে থাকেন। ঘটনার দিনও তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই তেল নিতে প্রবেশ করেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন তিনি সম্মান বজায় রেখে জানান যে, মোটরসাইকেলটি নতুন কেনা এবং ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এক সুশীল নাগরিক এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আচরণ এমন হওয়া উচিত নয়। যদি ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল আরোহীর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন না থাকে, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী গাড়ি আটক করতে পারতেন, মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করতে পারতেন কিংবা প্রয়োজনীয় মামলাও দিতে পারতেন। কিন্তু কোনোভাবেই একজন ব্যক্তির বুক থেকে ডিপার্টমেন্টাল আইডি কার্ড খুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি ক্ষমতার অপপ্রয়োগের শামিল।

তবে ইউএনও’র এই বক্তব্যই তার দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহলে। কারণ, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলেও কোনো সরকারি কর্মচারীর বুক থেকে জোরপূর্বক আইডি কার্ড খুলে নেওয়ার ক্ষমতা তার নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন আচরণ শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকেও হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও আইনি সীমারেখা লঙ্ঘনের উদাহরণ হতে পারে। তারা উল্লেখিত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category