মোঃ এনামুল ইসলাম,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ শওকত হোসেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও নিজ অবস্থানে দৃঢ় থেকেছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি সাহসী ও নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে মোঃ শওকত হোসেন একাধিকবার জেল-জুলুম ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে এসব বাধা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে তিনি রাজনীতি ও জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। স্থানীয়দের মতে, তার এই ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস তাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় আলাদা করেছে।
শওকত হোসেন হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে হোসেনপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন মানবিক ও সমাজসেবামূলক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। করোনাকালীন সময়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্রদের সহায়তা, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম—এসব উদ্যোগ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
স্থানীয় এক তরুণ বলেন, “শওকত ভাই অন্যদের মতো শুধু নির্বাচন এলেই আসেন না। তিনি সব সময় মানুষের পাশে থাকেন। জেল-জুলুমের মধ্যেও তিনি এলাকার মানুষের খোঁজ নিয়েছেন, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”
একজন প্রবীণ ভোটার জানান, “অনেক কষ্ট সহ্য করেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। এমন সাহসী ও ত্যাগী নেতাই এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
প্রার্থী মোঃ শওকত হোসেন বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের সেবা করার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি এবং মানুষের পাশে থেকেছি। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি হোসেনপুরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস এবং সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক—সব মিলিয়ে মোঃ শওকত হোসেন এই নির্বাচনে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।