• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
Headline
করিমগঞ্জে নকল ভূষি উৎপাদন, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি মোংলায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক দিনের সরকারি সফরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি’র অভিযানে-৪৮৬ বোতল ভারতীয় নেশা জাতীয় সিরাপ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক সচেতনতা, কিশোরগ্যাং, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের চারাগাছ বিতরণ ও রোপণ

প্রবাসের স্বপ্ন দেখিয়ে নিঃস্ব পরিবার: কুয়েতে নির্যাতন, দেশে মামলা—তবুও গ্রেফতার নেই

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি / ২৫৭ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কুন্ডা ইউনিয়নের কুন্ডার চর এলাকায় প্রবাসে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, একটি চক্র দেশের সহজ-সরল ও নিম্ন আয়ের মানুষদের টার্গেট করে কুয়েতে পাঠানোর নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিজনের সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। প্রথমে সহজ নিয়ম ও দ্রুত পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও, কুয়েতে নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর নির্যাতনের ভিডিও ও ভয়েস পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা আদায় করা হয়। সর্বোচ্চ অর্থ আদায়ের পর অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি লিখিত অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী শাহানা আক্তার উল্লেখ করেন, তার স্বামী লিটনকে বিদেশে পাঠানোর নামে বিভিন্ন ধাপে মোট কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। কুয়েতে নেওয়ার পরও বারবার টাকা দাবি করা হয় এবং ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সর্বমোট প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আরেকজন আব্দুর রহিম বলেন “আমরা গরিব মানুষ, ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমাদের লোককে বিদেশে নিয়ে গিয়ে যেভাবে নির্যাতন করে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই।”

স্থানীয় এক বাসিন্দার মন্তব্য:“এটা কোনো একক ঘটনা না, একটা চক্র কাজ করছে। সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে এরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

আরেক ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য বলেন:“বিচার-সালিশে দোষ প্রমাণ হওয়ার পরও যদি ক্ষতিপূরণ না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিদেশের মাটিতেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে প্রচলিত আছে।

এছাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলি আদালত, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকার আদালতে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারী লিটন বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে, বিজ্ঞ আদালত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলমকে ২০/০৪/২০২৬ তারিখ হতে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

এতসব অভিযোগ, মামলা ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় আইনগত ব্যবস্থা বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি একটি ভয়াবহ মানবপাচার ও প্রতারণা চক্র, যা দ্রুত দমন করা জরুরি। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category