আ.ন.ম.লুৎফর রহমান: খণ্ডিত ও সম্পাদিত অডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্নের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামালপুর জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ মোঃ আব্দুস সোবহান। সোমবার (৪ মে) সকাল ১১টায় জামালপুর সদর উপজেলা সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ছনকান্দা-চর যথার্থপুর বালুমহালের ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই অনুযায়ী তিনি ও অন্যান্য আগ্রহীরা দরপত্রের সিডিউল ক্রয় করেন। ১৯ এপ্রিল দরপত্র জমাদানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এর আগের দিন ১৮ এপ্রিল জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের বরাত দিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমীন মিলন ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আঃ হালিম তাকে সহ অন্যান্য সিডিউল ক্রয়কারীদের এমপি’র ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নেন।
তিনি জানান, সেখানে সমঝোতার জন্য আলোচনা হয় এবং পরদিন ১৯ এপ্রিল সকালে পুনরায় বৈঠকে বসে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির (পূর্ব শাখা) সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলামের ‘আমেনা এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে সর্বোচ্চ দরদাতা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আঃ হালিমের কাছে জমা দেওয়া হয়, যিনি সেগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে পরে তারা জানতে পারেন, সমঝোতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গোপনে আমেনা এন্টারপ্রাইজের বিড সরিয়ে ফেলে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফোন রিসিভ না করলেও এক পর্যায়ে ফোনালাপে কিছু কথোপকথন হয়, যা পরবর্তীতে রেকর্ড করে আংশিকভাবে কেটে-ছেঁটে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ মোঃ আব্দুস সোবহান বলেন, “১৯ এপ্রিলের সেই ফোনালাপকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা আমাকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।”
তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।