মোঃ বকুল হোসেন ঈশ্বরদী,পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদীতে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইসরাইল হোসেন মন্ডল গং-এর ক্রয়কৃত ভিটা বাড়ির পাকা বাউন্ডারি দেয়াল জোরপূর্বক ভেঙে ফেলা, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল হোসেন মন্ডলের পরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. শামীম আহমেদসহ তাঁর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত কণ্ঠে অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছি। আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যগতভাবে ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষ আমাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমাদের বাড়ির বাউন্ডারি ও আঙিনায় ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৫০ ধারা অনুযায়ী কেস নং-১১৭৫২ এবং হোল্ডিং নং-৬২৮৯-এর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ মে ২০২৫ তারিখে নামজারি বাতিল সংক্রান্ত আবেদন দাখিল করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কেস দায়ের ও আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নায়েব সাহেবের অসহযোগিতার কারণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিসহ আমাদের সম্পত্তিতে অনধিকার চর্চা করছে। সর্বশেষ তারা আমাদের বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙচুর করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের পারিবারিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এ অবস্থায় আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক জমি দখল, বাউন্ডারি ভাঙচুর বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চাই না, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক চেয়ারম্যানের স্বজনরা জানান, এই জমিটি অপরাধীর বাবা প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁদের কাছে বিক্রি করেছিলেন, যার সমস্ত কাগজপত্র তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে অপরাধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।