নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরী (২১) কে রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে হাসিব চৌধুরী। পরে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। এ সময় সে ধর্ষণের ভিডিও ও ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ ও সংরক্ষণ করে।
পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে ভিডিও ও ছবিগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ এর সহায়তা চান।
এর প্রেক্ষিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে গত ২ জুন রাত ৮টা ৫ মিনিটে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত হাসিব চৌধুরীর বাড়ি বরিশাল জেলার হিজলা থানার মোল্লারহাট এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, দুটি আইডি কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভ্যাপ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।