চীফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আশঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে মাঠে সরব হয়ে উঠেছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নেতা। তাদের মধ্যে আছেন—
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম. ওসমান ফারুক
জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা
জালাল মোহাম্মদ গাউস
জেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম
জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক এরশাদ আহসান
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে এ আসনে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করে তিন দশক ধরে সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর ফলে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে একাট্টা হচ্ছেন।
নির্বাচনী মাঠে সরবতা
গত ৫ আগস্টের পর থেকেই নির্বাচনী মাঠের চিত্র বদলে গেছে। আগে যে নীরবতা বিরাজ করছিল, এখন তা ভেঙে সরগরম হয়ে উঠেছে বিএনপি ও শরিকদের কার্যালয়। তদবির, জনসংযোগ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক, উঠান বৈঠক এবং কর্মীসভা করছেন।
মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিযোগিতা
এম. ওসমান ফারুক, গাউস, সাইফুল ইসলাম ও এরশাদ আহসান—এদের প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে সমানতালে তৎপর। তবে জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বর্তমানে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন। ফলে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ভেতরে “মনোনয়ন লড়াই” এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত যাকেই প্রার্থী করুক না কেন, এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বহুমাত্রিক। কারণ শুধু প্রার্থী নির্ধারণই নয়, মাঠে সক্রিয়তা, জনসংযোগ ও জোটের কৌশল এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।