কুতুবউদ্দিন আহমেদ: প্রাথমিক শিক্ষা হলো জাতির ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। তাদেরই একজন করিমগঞ্জ উপজেলার খয়রত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে তাকে “গুণী প্রধান শিক্ষক” হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
ইতোপূর্বে তিনি ২০২২ ও ২০২৩ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সবার প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে তার নাম আজ শুধু বিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষানুরাগী সমাজ ও এলাকাবাসীর মুখে মুখে উচ্চারিত।
মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন শুধু একজন প্রধান শিক্ষক নন, তিনি একজন দূরদর্শী পরিকল্পনাকারীও। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি নিয়েছেন একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশ বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে সেখানে নির্মাণ করেছেন বাউন্ডারি ওয়াল।
চারপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্কুল মাঠকে করেছেন সবুজে ঘেরা ও দৃষ্টিনন্দন।
আঙ্গিনায় নির্মাণ করেছেন স্থায়ী “প্রতিভা অন্বেষণ মঞ্চ”, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
খয়রত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ উপজেলায় এক অনন্য উদাহরণ। বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, প্রতিটি শিক্ষার্থী নির্ধারিত স্কুল ড্রেস পরে আসে, আর সর্বত্র বিরাজ করে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা।
বিদ্যালয়ের ভবন সাজানো-গোছানো, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ সুশোভিত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি বিদ্যালয়ে স্থাপন করেছেন স্থায়ী খেলাধুলার উপকরণ। রয়েছে সমৃদ্ধ “খেলাঘর” এবং “শিশু কানন” নামে দৃষ্টিনন্দন প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ। শিশুরা এখানে আনন্দের সাথে খেলতে, শিখতে এবং বেড়ে উঠতে পারছে।
বিদ্যালয়ের সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকদের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা। প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন সবসময় চেষ্টা করেছেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অভিভাবকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে। এর ফলে বিদ্যালয় উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হচ্ছে।
আজকের দিনে যখন প্রাথমিক শিক্ষায় নানা সংকটের কথা শোনা যায়, তখন মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি, সৃজনশীলতা ও সঠিক নেতৃত্ব থাকলে একটি বিদ্যালয় কীভাবে বদলে যেতে পারে। তার কর্মপ্রচেষ্টা অন্য শিক্ষকদের জন্যও হয়ে উঠছে অনুকরণীয়।
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই গুণী প্রধান শিক্ষকের প্রতি সহকর্মী শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর শুভকামনা অবিরাম। তার হাত ধরে খয়রত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু নয়, পুরো করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা করছে।