নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে ঘিরে জনমনে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান না করে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন, সেটিও বৃহস্পতিবার, ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি অধিকাংশ সময় ফোন রিসিভ করেন না। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এভাবে নাগরিকদের কলেও সাড়া না দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানকে না পাওয়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, ভাতা-অনুদানের আবেদন, নাগরিক সনদ, ও অন্যান্য জরুরি সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এতে ইউনিয়নের নাগরিকরা কার্যত চেয়ারম্যানের উপস্থিতির ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নোয়াবাদ ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি বলেন—
“চেয়ারম্যান সাহেবকে সপ্তাহে একদিন ছাড়া অফিসে দেখা যায় না। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান, দাপ্তরিক কাজ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তিনি তেমন মনোযোগী নন। ফোনে যোগাযোগ করতে গেলেও ফোন ধরেন না।”
অভিযোগকারীরা আরও জানান, চেয়ারম্যানের এই উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীন আচরণ ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি করছে। ইউনিয়নের নাগরিকরা মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থেকে সেবা দেওয়া, অথচ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল তা করছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যানের এমন আচরণ গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের পরিপন্থী। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন জনগণ তাদের প্রাপ্য সেবা সঠিকভাবে পান।
এ বিষয়ে জানতে নোয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন—“জনগণের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। চেয়ারম্যান যদি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত না হন বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”