কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ত্যাগী বিএনপি কর্মী আতাউর রহমান রিফাত মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং তাকে ঘিরে চলমান ঘটনাপ্রবাহ এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সমর্থক ও সচেতন মহলের দাবি—এটি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি জাতীয়তাবাদী পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও কোণঠাসা করার অপচেষ্টা।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, আতাউর রহমান রিফাত মোল্লার পিতা মরহুম লুৎফুর রহমান মোল্লা ছিলেন তেঘরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বিএনপির আদর্শে দীর্ঘ প্রায় ১৫/২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তার দাদা শুকুর চান মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৫৫ বছর ধরে তেঘরিয়া ইউনিয়নের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পরিবারটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত।
স্থানীয়দের দাবি, রিফাত মোল্লা নিজেও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপির একজন ত্যাগী ও সাহসী কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক হয়রানি, জেল-জুলুম ও চাপের শিকার হন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে রিফাত মোল্লা ন্যায়বিচারের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা যায়। তার সমর্থকদের ভাষ্য, তিনি আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
অপরদিকে মামলার বাদী বিশাল মিয়াকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল মিয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তেঘরিয়া বাস কাউন্টার বন্ধ করে শাটার লাগিয়ে দেন এবং বিএনপির ত্যাগী কর্মী রিফাত মোল্লাকে গ্রেফতারের দাবিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা থানার মূল ফটক অবরুদ্ধ রাখা হয় বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী কীভাবে প্রকাশ্যে রাস্তা বন্ধ, থানা ঘেরাও ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো দুঃসাহস দেখায়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।” তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আবারও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পুরোনো দুঃশাসনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
এলাকাবাসীর মতে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুরসহ অসংখ্য মামলার আসামি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। অথচ বিএনপির ত্যাগী কর্মী রিফাত মোল্লাকে গ্রেফতারের জন্য যেভাবে তার বাসায় পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়েছে, সেটিকে স্থানীয়রা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “ফ্যাসিস্ট আমলে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুর মামলার আসামিদের বাড়িতে যদি একইভাবে অভিযান চালানো হতো, তাহলে সাধারণ মানুষ অন্তত বুঝতে পারত আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী এখনো বুক ফুলিয়ে হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ প্রশাসনের চোখ যেন তাদের দিকে যায় না।”
তেঘরিয়া ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কি আবারও বেছে বেছে হয়রানির সংস্কৃতি ফিরে আসছে? যদি না-ই আসে, তাহলে কেন একজন ত্যাগী বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে এত তৎপরতা, আর অপরদিকে বহু আলোচিত আসামিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে যদি সুবিধাবাদী ও অতীতের বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে বিভক্তি ও অস্থিরতা আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।