নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ঘিরে আছেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না, ফোনেও ধরা যায় না
স্থানীয়দের অভিযোগ—চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় আসেন না বললেই চলে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি স্থানীয়দের ফোন রিসিভ করেন না। জনগণ বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে যদি চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোই না যায়, তবে আমরা সেবা পাবো কোথায়?”

ভিজিডি-ভিজিএফ বণ্টনে অনিয়ম
বিগত সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে—ভিজিডি, ভিজিএফ, ওএমএস ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের কার্ড বণ্টনে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। দরিদ্র জনগণ তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও প্রভাবশালীরা এসব সুবিধা পেয়েছেন।
ভিজিএফ চাল বিতরণে কারসাজি ও হামলার অভিযোগ
২০২৫ সালের মে মাসে সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় ওজনে কারসাজির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে—প্রত্যেককে ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও ৭–৮ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠে আসে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে স্থানীয়রা মানববন্ধন করে অভিযোগ করেছিলেন—চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ভাতা ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড বণ্টনে ঘুষ আদায়সহ নানা অনিয়ম করছেন। একই বছরের অক্টোবর মাসে ইউপি’র ৭ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলা প্রশাসন বরাবর।
স্থানীয়দের দাবি
নোয়াবাদ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছেন—একজন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা দেওয়া। কিন্তু মোস্তফা কামাল পরিষদে না আসা, ফোন না ধরা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের দাবি, চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পায়।