কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকায় জুলাই ছাত্র–জনতার আন্দোলনের এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যদের ওপর বাকবিতণ্ডা ও আসামি গ্রেফতার বাধা সৃষ্টি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির একটি দল আব্দুল্লাহপুর করেরগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তেঘরিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জুলাই গণহত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা।
ডিবি সদস্যরা আসামিকে শনাক্ত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জমিদার। অভিযোগ রয়েছে, তার উপস্থিতিতেই তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ডিবি সদস্যদের ঘিরে ধরেন এবং কৌশলে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিকল্পিতভাবে ভিড় সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশের কাজে প্রকাশ্যে বাধা সৃষ্টির ফলে কৌশলে জুলাই হত্যা মামলার এজারভুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ তেঘরিয়া ইউনিয়ন যুব লীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন,
“প্রশাসনের লোকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে আসলে ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে সেখানেও খোরশেদ আলম জমিদার বাধা সৃষ্টি করেন। একইভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জুলাই গণহত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও তিনি ও তার সহযোগীরা বারবার বাধা প্রদান করেন”
এদিকে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সুমন এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেন,
“জুলাই ছাত্র–জনতার আন্দোলনের এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে বাধা প্রদান করা একজন আদর্শ নেতার কাজ হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করে। এখানে দলীয় পরিচয়ের কোনো স্থান নেই। যারা সরকারি কাজে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জুলাই গণহত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলার আসামিকে রক্ষা করার চেষ্টা রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।